Publish Date: 09 Feb 2026 09:18:34 AM
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের উদ্যোগে আজ ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬খ্রি. তারিখ রোজ রবিবার দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় একাডেমিক ভবন-১ এর সম্মেলন কক্ষে একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় যার শিরোনাম “Be Useful and the world will find You”। অর্থ্যাৎ আপনি যদি মানুষের জন্য উপকারী হয়ে উঠতে পারেন তাহলে পৃথিবী নিজেই একদিন আপনাকে খুঁজে নেবে। আমরা অনেকেই স্বীকৃতি, সাফল্য, উন্নতি বা পরিচিতি পাওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ি কিন্তু সত্য হলো সাফল্যের পেছনে না ছুটে মানুষের কাজে লাগার চেষ্টা করলে সাফল্য নিজেই ধরা দেবে।
উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাবিপ্রবি'র মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। সেমিনারে কীনোট স্পিকার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক এ অবস্থিত আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন আইটি প্রতিষ্ঠান ইউটিসি এসোসিয়েটস্ (UTC Associates, New York) এর প্রেসিডেন্ট এবং সিইও জনাব আজিজ আহমেদ। সভার সভাপতিত্ব করেন সায়েন্স, ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল আলম। সেমিনারে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শুধুমাত্র সার্টিফিকেট ও ভালো সিজিপিএ জীবনে গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হলো সময় ও প্রযুক্তির সঙ্গে নিজের দক্ষতা ও জ্ঞান সমন্বয় করে নিজেকে উপস্থাপন করা এবং সমাজে নিজের কাজ তথা গবেষণা লব্ধ জ্ঞানের প্রতিফলন বা প্রভাব তুলে ধরা। শিক্ষার্থীরা যাতে ইন্টারভিউতে নিজেদের দক্ষতা ও তাদের গবেষণা কাজসমূহ সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পারে সেজন্য নিজেদেরকে তৈরি করতে হবে এবং প্রতিনিয়ত তাদের দক্ষতা উন্নত করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। সমাজ, রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানকে সেবা দেয়াই আমাদের সকলের মূখ্য উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। তিনি শিক্ষার্থীদেকে অনুপ্রেরণামূলক কাজ করার জন্য উৎসাহিত করেন এবং দেশে-বিদেশে রাবিপ্রবি’র শিক্ষার্থীদের অবদান রাখার আহবান জানান। তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন কীনোট স্পিকার প্রকৌশলী আজিজ আহমেদকে তাঁর জীবনের বাস্তবতা ও বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তির ব্যবহার ও তথ্য সম্বলিত উৎসাহমূলক বক্তব্য প্রদান করার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
সেমিনারের কীনোট স্পিকার প্রকৌশলী আজিজ আহমেদ বক্তব্যের শুরুতে আমেরিকাতে শিক্ষাজীবন শুরুর সংগ্রাম, পার্ট-টাইম চাকরির মাধ্যমে টিউশন ফি জমানো, পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকা এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত UTC Associates Inc.- সিস্টেম ও নেটওয়ার্কিং কোম্পানি সম্পর্কে আলোচনা করেন। ১৯৮৯ সালে বিশ্ববিখ্যাত Bell Labs এ ইন্টার্নশিপের তাঁকে প্রযুক্তিখাতে কাজ সুযোগ তৈরি করেছিলো বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে AI এর প্রায়োগিক ব্যবহার সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। এক্ষেত্রে বর্তমান ও ভবিষ্যতের সম্ভাবনার কথাও বলেন। নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খেয়ে চলার উপর গুরুত্ব দেন। তিনি বিভিন্ন অ্যাপস, মেশিন লার্নিং, সফটওয়্যার, ওয়েবসাইট ডিজাইন, ফ্রিল্যান্সিং, স্টার্টআপ, সাইবার সিকিউরিটি, পাইথন, ড্রোন প্রযুক্তিসহ অনুরূপ বিষয়-প্রযুক্তি নিয়ে উদ্ভাবনী গবেষণা করে সমাজের বিভিন্ন সেক্টরে ভবিষ্যৎ উপযোগী চাহিদা পূরণে কাজ করার আহবান জানান। তিনি জীবনে উচ্চাবিলাসী পরিকল্পনা না করে ছোট কাজ দিয়েই জীবন শুরু করার উপর গুরুত্ব দেন। জীবনে কোনো ব্যর্থতাই যেন হতাশাগ্রস্ত করতে না পারে; বরং হতাশাকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে এবং সমসময় নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যেতে হবে। তিনি সামাজিক সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরো বলেন, কম্পিউটার সায়েন্স এমন একটি সাবজেক্ট- যেই ডিগ্রী, প্রায়োগিক জ্ঞান, দৃঢ়তা, নিয়মানুবর্তিতা ও স্বপ্ন দিয়ে দেশ-বিদেশের যেকোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করা সম্ভব। দেশের উন্নয়নে এবং উদ্ভাবনে আমাদের প্রযুক্তিকে ধারণ করতে এবং কাজে লাগাতে হবে। তিনি বলেন, রাঙ্গামাটির শিক্ষার্থীদের কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই, তারা যেখানেই যাক না কেনো, ভার্চুয়ালি তারা পৃথিবীকে অনেক কিছু দিতে পারবে। পরিশেষে কীনোট স্পিকার প্রকৌশলী আজিজ আহমেদ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।