Publish Date: 26 Apr 2026 09:49:01 AM
রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ ২৬ এপ্রিল ২০২৬খ্রি. তারিখে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬ ( World Intellectual Property Day) উদযাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এ বছর বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়: “IP and Sports: Ready, Set, Innovate” ।
সকাল ৯:৩০ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন ১ এর সভাকক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন রাবিপ্রবি’র মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আতিয়ার রহমান। সভার সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জনাব মোহাম্মদ জুনাইদ কবির। সভায় বক্তব্য রাখেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রহিম উদ্দিন; কী-নোট উপস্থাপন করেন ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক (ইটিএল) ড. মোঃ আবু তালেব এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও আইকিউএসি’র অতিরিক্ত পরিচালক (কিউএ) ড. তানজিম মাহমুদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, সৃষ্টিশীলতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে টেকসই ভবিষ্যৎ গঠনে বিশ্বের সাথে সঙ্গতি রেখে আমাদেরকেও এগিয়ে যেতে হবে। আজকে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬, এ আয়োজনের একটাই উদ্দেশ্য আমরা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-গবেষকগণকে মৌলিক গবেষণায় উদ্বুদ্ধ এবং সেইসাথে গবেষণাগুলোর মেধাস্বত্ব অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। যা দেশের অগ্রগতি, উন্নয়ন ও আর্থিক নিরাপত্তাসহ দেশের মেধা-সম্মান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের এমন অনেক গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও ঐতিহ্যিক উপকরণ আছে যার পেটেন্ট এখনো হয়নি যা হওয়া খুবই জরুরী। আজকের এ আলোচনা আমাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন করে তুলবে এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
স্বাগত বক্তব্যে ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন বলেন, মেধাস্বত্ব অধিকার (Intellectual Property Rights) সুরক্ষা উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এবং সৃজনশীল শিল্পকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি প্রযুক্তি, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, খেলাধূলা ও গবেষণার ক্ষেত্রে সৃষ্টিশীল গবেষকদের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। খেলাধূলার মৌলিকত্বের বিষয়ে গবেষণা ও সারা বিশ্বে এর মিলিয়ন-বিলিয়ন অধিক ব্যবসার কথাও তুলে ধরেন।
কী-নোট স্পিকার তার বক্তব্যে বাংলাদেশের নাগরিকদের সৃজনশীল মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, বাংলাদেশের কপিরাইট আইন, পেটেন্ট, পেটেন্ট সুরক্ষা ব্যবস্থা, পেটেন্ট নিবন্ধন প্রক্রিয়া, কপিরাইট আইন প্রয়োগ ও সীমাবদ্ধতা, ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি অরগানাইজেশন সম্পর্কে এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় করণীয় ও সচেতনতা তৈরিতে ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস’ উদযাপনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার জন্য এবং দেশে টেকসই উন্নয়নের জন্য পার্টনারশিপের মাধ্যমে মেধাস্বত্বের আদান-প্রদানের জন্য আইনগত কাঠামো তৈরি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) মেধাস্বত্বের গুরুত্ব, কপিরাইট, পেটেন্ট ও ট্রেডমার্ক সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন এবং ডিজিটাল এ যুগে সৃজনশীল কাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি কী-নোট স্পিকারকে এবিষয়ে বিশদ আলোচনার জন্য ধন্যবাদ প্রদান করেন এবং এ আলোচনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর ২৬ এপ্রিল তারিখে World Intellectual Property Organization (WIPO)- এর উদ্যোগে বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস (World IP Day) উদযাপিত হয়ে থাকে। ১৯৬৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা (WIPO) হলো জাতিসংঘের একটি বিশেষায়িত সংস্থা যার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত। এটি বিশ্বব্যাপী মেধাস্বত্ব (IP)- যেমন পেটেন্ট, ট্রেডমার্ক এবং কপিরাইট- এর সুরক্ষাকে উৎসাহিত করে এবং পেটেন্ট কো-অপারেশন ট্রিটি (PCT)- এর মতো পরিষেবার মাধ্যমে উদ্ভাবক, নির্মাতা ও ব্যবসায়ীদেরকে তাদের ধারণা সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে ।
আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।